নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় আমাকে নিলো না- নিলো অসীমকে

 


নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় আমাকে নিলো না- নিলো অসীমকে

-মুহাম্মদ দিদারুল আলম

 টাইটানিক যখন তার প্রথম যাত্রাতেই আটলান্টিক মহাসাগরের অতলান্ত জলরাশিতে ধীরেধীরে ঢুবে যাচ্ছিল তখনো জাহাজের ডেকের উপর অনেক নারী-পুরুষ নানা বিনোদন ও নর্দনকুর্দনে ব্যস্ত ছিল কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল সারা পৃথিবী ঢুবে যেতে পারে কিন্তু যুগের বিশ্ময় টাইটানিক কখনো ঢুবতে পারে না

এক দশক আগের কথা নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ ফেয়ার নিরপেক্ষ পরিক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতাসম্পন্ন একজন সহকারি শিক্ষক (ইংরেজি) নিয়োগ করা হবে জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান, কক্সবাজারের গর্ব, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও এতদঞ্চলের প্রবাদ পুরুষ ছিলেন রশিদ নগরের মরহুম মৌলভী ফরিদ আহমদ তাঁরই সুযোগ্য সন্তান রামু-কক্সবাজার আসনের সাবেক তুখূড় পার্লামেন্টারিয়ান এডভোকেট খালেকুজ্জামান কর্তৃক তাঁর দাদার নামে 1988 সালে প্রতিষ্ঠিত নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার মান, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, প্রচুর শিক্ষার্থী ইত্যাদি বিভিন্ন কারনে আজ জেলার প্রথম সারির বিদ্যালয়গুলোর একটি চাকুরি বাজারের আকাল সময়ে সেদিন তাদের আশাব্যাঞ্জক পত্রিকাবিজ্ঞপ্তিটি আমার মত ভূখা-নাঙ্গা অনেক মেধাবী বেকার যুবকের বুকের গহীনে ক্ষণিকের জন্য হলেও আশার স্রোতে তরী ভাসাতে সাহায্য করেছিল তাই তাদের চাহিদামত নির্ধারিত ব্যাংক ড্রাফট কিনে ঐ একটি পদের জন্য আবেদন করেছিলেন প্রায় 20/25জন প্রার্থী সেদিন আমিও ছিলাম সেই চাকুরিসন্ধানী প্রবঞ্চিত হতভাগ্যাদের সারিতে একজন বিদ্যালয় কমিটির ঘোষণা ছিল লিখিত মৌখিক পরিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং পরিক্ষার অব্যাবহিত পরপরই ফলাফল প্রকাশ করে নির্বাচিত শিক্ষককে পুষ্পমাল্যে বরণ করে নিয়ে যাওয়া হবে বিধিমোতাবেক নির্ধারিত দিনে ককসবাজার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)-এর কার্যালয়ে সম্পূর্ণ তাঁরই তত্ত্বাবধানে নিয়োগ পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল

আজ নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ শ্বেতশ্মশ্রুমন্ডিত বেশ কয়েকজন প্রাজ্ঞ বয়োজেষ্ঠ্য ব্যক্তিবর্গ এসেছেন নিয়োগ পরিক্ষায়  নির্বাচিত নতুন শিক্ষককে বরণ করে নেয়ার জন্য লিখিত পরিক্ষার আগমুহূর্তে প্রধান শিক্ষক ও  কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণকারী পরিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নতিদীর্ঘ বক্তব্য  রাখলেনবললেন- “আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আজকে একজন মেধাবী উপযুক্ত শিক্ষককে বাছাই করে নিয়োগ দিতে যাচ্ছি আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কোন কোন প্রার্থী  নেই- এই আপনাদের মধ্য থেকে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতেই একজনকে নির্বাচন করে নেয়া হবে আপনারা বিনাসংশয়ে আমাদের উপর আস্থা রেখে পরিক্ষা দিতে পারেন প্রকৃত মেধাবি শিক্ষককে আমরা যথাযথ মূল্যায়ন করবো আমরা আপনাদেরকে  আরো আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমাদের সততা নিরপেক্ষতার প্রমাণস্বরূপ পরিক্ষার পরপরই ফলাফল প্রকাশ করে নির্বাচিত শিক্ষককে  উপস্থিতক্ষেত্রে  ঘোষণা দিয়েই বরণ করে আমাদের সাথে নিয়ে যাবো  এবং তাকে আজকেই নিয়োগ পত্র দিয়ে দেবোতাই লিখিত পরিক্ষার সাথেসাথে ভাইভাও হয়ে যাবে এবং এর পরপরই ফলাফল আপনাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে আপনারা পরিক্ষা শেষে কেউ ফলাফল না শুনে চলে যাবেন না

বিদ্যালয়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মুখে সততা ও স্বচ্ছতার এহেন আবেগস্ফুরিত ভাষণ শোনে অন্য সবার মতো আমিও মনেমনে ভাবতে লাগলাম- এবার বুঝি আমার চাকুরিটা হয়েই গেল

পরিক্ষার হলে আমার অদূরে বসেছেন একজন বিএসসি টিচার জানতে চাইলাম একজন গণিতের শিক্ষক হয়ে তিনি কেন ইংরেজি শিক্ষকের পদে পরিক্ষা দিতে এসেছেন আর কিভাবেই বা তার আবেদনপত্র গৃহীত হয়েছে তিনি জানালেন, তিনি নিজের জন্য আসেননি, এসেছেন অসীম স্যারের সহযোগি হিসেবে মানে তিনি মূল প্রার্থী নন, তিনি তার পাশে বসা অসীম সাহেবকে গণিতে হেল্প করার জন্যে এসেছেন কারণ অসীম সাহেব ইংরেজিতে দক্ষ কিন্তু গণিত জানেন না আর অসীম সাহেবকে লিখিত পরিক্ষার গণিত অংশে হেল্প করে পার করিয়ে দেবেন তিনি এভাবে অন্যকে সহযোগিতা করার জন্য পরিক্ষাহলে ফেইক প্রার্থী হয়ে আসা এবং তা- আবার একদম নির্ভয়ে প্রকাশ করতে দেখে আমরা কিছুটা সন্দিহান ও স্তম্ভিত হয়ে পড়লাম আমরা কয়েকজন মিলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে পূর্বাহ্নে জানাতে চাইলে কেঁচো কুঁড়তে সাপ বেরিয়ে এলো অর্থাৎ অসীম সাহেবকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনেক আগে থেকেই কন্ট্যাক্ট করে শিক্ষক হিসেবে সিলেক্ট করে রেখেছেন আজ কেবল বিধিমোতাবেক নিয়োগ বৈধকরণ প্রক্রিয়ার অনুষ্ঠানিকতামাত্র জানতে পারলাম এই ফেইক পরিক্ষার্থীও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাজানো পুতুল উক্ত ফেইক পরিক্ষার্থী আরো যা জানালেন- অসীম সাহেব হলেন একসময়ের দেশখ্যাত খুটাখালী কিশলয়ের বর্তমান ইংরেজি শিক্ষক এবং তিনি (অসীম সাহেব) এত বেশি ইংরেজি জানেন যে আমরা সবাই মিলেও নাকি তার সমান পারবো না তাদের (কমিটি) দৃ্ষ্টিতে অসীম সাহেবের চেয়ে ভালো শিক্ষক বা মেধাবী শিক্ষক দ্বিতীয় কেউ থাকতে পারে না তাই তাদের ধারণা নিয়োগ পরিক্ষায় প্রতিযোগি যতই আসুক অসীম সাহেব সবাইকে ছাড়িয়ে প্রথম হবেনই তাতে কোন সন্দেহ নেই আর নিয়মানুযায়ী নিয়োগ পরিক্ষায় যেহেতু বাংলা, ইংরেজি গণিত বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে, তাই তাঁকে গণিতে একটু হেল্প করে্ এগিয়ে দেয়ার জন্যই আজ তিনি (ফেইক প্রার্থী) এসেছেন

আমরা তার মুখে অনাকাঙ্খিত অপ্রত্যাশিত এসব কথা শুনে বজ্রাহতের ন্যায় হয়ে গেলাম এখন কার কথায় বিশ্বাস করবো- এই স্বঘোষিত ভুঁয়া প্রার্থীকে না বিদ্যালয়পক্ষের ওইসব ভদ্রলোকদের? অনেক সময় দেখা যায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিক্ষায় ভালো প্রার্থীদেরকে ডাইভার্ট করার জন্য অনেকে বিভিন্ন ধরণের পরিকল্পিত রিউমার ছড়ায় সে যা- হোক, ওসব মুহূর্তে মাথায় নিয়ে লাভ নেই পরিক্ষা দিতে যখন এসেই পড়লাম আগে পরিক্ষাটা দিই তারপর দেখা যাবে আমরা যথারীতি পরিক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে নিবিষ্টমনে কলমযুদ্ধে আত্মনিয়োগ করলাম

পূর্বঘোষণানুযায়ী লিখিত পরিক্ষা শেষ হওয়ার সাথেসাথেই ভাইভাতে ডাক পড়া শুরু হয়ে গেছে এদিকে লিখিত পরিক্ষার উত্তরপত্র দেখার কাজও চলছে দ্রুতগতিতে কারণ খুব অল্প সময়ের মধ্যে দুপরিক্ষার নম্বর যোগ করে চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে আমি জীবনে শিক্ষকতার জন্য যত নিয়োগ পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলাম, তম্মধ্যে এটিতেই মনে হয় সবচেয়ে ভালো করেছি আর পরিক্ষাতেই সবচেয়ে বেশি নিরপেক্ষতার আশ্বাসবাণী শুনতে পেয়েছি তাই সঙ্গত কারনে সেদিন ফাগুনের স্বর্ণালি বিকেলে অন্য সবার মত আমিও কল্পনার সাগরে আশার ভেলা বেয়ে চলেছি চাকুরিনামক সোনার হরিণটি ধরার দিবাস্বপ্নে বিভোর হয়ে

ভাইভা শেষ ইতোমধ্যে লিখিত পরিক্ষার ফলাফলও এসে গেছে লক্ষ্য করলাম, মুহূর্তে নিয়োগ বোর্ড বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যস্ততা, কানাকানি ও ফিসফিসানি বেড়ে গেছে চলছে একক্ষ ওকক্ষ ছুটাছুটি, দৌড়াদৌড়ি ও ফাইলপত্র টানাটানি সবার চোখেমুখে বিষন্নতার চাপ- কি যেন একটা অঘটন ঘটে গেছে হঠাৎ কেন জানি সৌরকরোজ্জ্বল তপ্ত অপরাহ্নে তাদের চেহারায় বিষাদের ঘনঘটা! কেন সবাই এ মুহূর্তে এতটা কিংকর্তব্যবিমূঢ়! কেন এখন শুধুশুধুই সময়ক্ষেপন? উৎসূক পরিক্ষার্থীদের সবাই তীর্থের কাকের মত মহাকৌতূহল নিয়ে বিদ্যালয় মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন কারণ সবার চরম কৌতূহল ছিল এরূপ একটা নিরপেক্ষ পরিক্ষায় (ঘোষণানুযায়ী) কে নির্বাচিত হয়েছেন তা দেখার পরিক্ষায় যারা ভালো করতে পারেননি তারাও অপেক্ষা করছেন শুধু বিজয়ী প্রার্থীকে একনজর দেখে যাওয়ার জন্য এদিকে চুড়ান্ত ফলাফল তৈরী হয়ে আছে প্রায় ঘন্টাদুয়েক আগেই, তাহলে প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? দিনের প্রহর শেষে এখন গোধুলী অস্তরাগে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে আমাদের অন্তহীন প্রতীক্ষার প্রহর যেন শেষ হবে না

সেদিনের মূল পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক তথা ককসবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে ছাত্রীর অভিভাবক হিসেবে আগে থেকেই আমার বেশ সুসম্পর্ক ছিল যেমনটি দিনের পরিক্ষার্থীদের মধ্যে আর কারো সাথে ছিল না তিঁনি কোন এক ফাঁকে বাইরে এলে আমি একান্তভাবে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম- কী খবর স্যার? ফলাফলতো আজকেই দেয়ার কথা, এখনো কি রেডি হয়নি? তিনি বললেন- ‘রেজাল্ট রেডি, চিন্তা করবেন না, আপনিই প্রথম হয়েছেন, কিন্তু এ মুহূর্তে তারা কী ভাবছেন জানি না এতক্ষণে আমার মনের মুকুরে সঞ্চিত সংশয় বাস্তবে পরিণত হলো,  আমার আর বুঝার কিছুই বাকী থাকলো না ককসবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বর্তমানে রামুতে নিজ উদ্যোগে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে এখনো জাতির শিক্ষোন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন  

সর্বশেষ সূর্যাস্তের পরপরই বিদ্যালয় নেতৃবৃন্দ পরিক্ষাকেন্দ্র ত্যাগ করে চলে যেতে উদ্যত হলে আমরা কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম- ‘স্যার, আজকেই তো ফলাফল ঘোষনা দেবেন বলেছিলেন আর আমাদেরকে আপেক্ষায় থাকতে বলেছিলেন, তাহলে কি ফলাফল আজকে দেবেন না?’ তাঁরা বললেন-সরি, আমাদের একটু সমস্যা হয়ে গেছে, ফলাফল এখনো চুড়ান্ত করতে পারিনি, আপনারা চলে যান, ফলাফল ফোনে জানিয়ে দেয়া হবে এবং যিনি নির্বাচিত হয়েছেন তাকে ডাকযোগে নিয়োগপত্র পাঠিয়ে দেয়া হবে

সেদিন অসহায় ভগ্নমনোরথ পরিক্ষার্থীরা নির্বাক চাহনিতে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে একরাশ নিরাশার বেদনা বুকে বহন করে নিতান্ত অসহায় সুবোধ বালকের মতো সবাই যার যার ঠিকানায় ফিরে গিয়েছিলেন সত্যিই যদি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেদিন নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক খোঁজতেন তাহলে তাদের কল্পনার সিংহপুরুষ বিশ্বসেরা শিক্ষক অসীমকেও যিনি পরিক্ষায় ছাড়িয়ে যেতে পারেন তাঁকে মূল্যায়ন করে আসল মহত্ত্বের পরিচয় দিতে পারতেন সেদিন অন্য সবার মত আমার বুকেও অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছিল যা কেউ দেখেনি

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন পর নিয়োগ দিয়েছিলেন তাদের সাথে পূর্বচুক্তিবদ্ধ অসীম সাহেবকে তাহলে পরিক্ষার নামে প্রহসনের সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করার কী দরকার ছিলো? সেদিন সততা, নিরপেক্ষতা নীতিকথার এত ফুলঝুড়ি আওড়াতে গেলেন কেন? কেনইবা নিলেন এতগুলো বেকারের চড়াদামের পে-অর্ডার/ ব্যাংক ড্রাফট? প্রতিশ্রুতিমোতাবেক নিয়োগ পরিক্ষায় সর্ব্বোচ নম্বরপ্রাপ্তকে পরিক্ষাকেন্দ্রেই ঘোষণা দিয়ে বরণ করে নিয়ে যেতে পারলেন না কেন? দূর্ণীতি করবেন তো করবেন বকধার্মিক সেজে সাধুসূলভ অভিনয়ের কী দরকার ছিল? অসীম সাহেবের চেয়ে ভালো শিক্ষক পৃথিবীর দ্বিতীয় কোন মা জন্ম দিতে পারেন না এমন  বদ্ধমূল সংকীর্ণ আত্মবিশ্বাসে অন্ধ হয়েছিলেন কেন? জসিম সাহেবকেতো নিয়েছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি তাকে রাখতে পেরেছিলেন? ভাবছেন, আমাকে চ্যালেঞ্জ করবেন? কেঁচো কুঁড়তে অন্য সাপ বেরিয়ে আসবে নাতো?

(কক্সবাজার: 18/03/2023ইং)

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post