নিজের
বগলের নীচে
শুঁকে দেখো
-মুহাম্মাদ
দিদারুল আলম
দুই ভদ্রলোক গল্প করছেন। ভাইজান, আমার মেয়েটা বড়ই ভাগ্যবান। এমন জামাই পেয়েছে, ওতো আমার মেয়ের কথায় ওঠবস করে। এমন জামাই ভাগ্যে জুটে কয়জনের! কিন্তু আমার ছেলেটার কপাল মন্দ। ও শুধু বউয়ের কথাই শোনে। বউয়ের কথার একবিন্দু বাইরে যায় না। কী যে করি। বড়ই দুচিন্তায় আছি ছেলেটাকে নিয়ে।
আসল কথায় আসি। আমি একটি মাধ্যমিক স্কুলে ইংরেজী পড়াতাম। স্থানীয় একমাত্র ঐতিহ্যবাহী
হাইস্কুলের
ইংরেজী শিক্ষক পদে নিয়োগ। সঙ্গত কারনে তীব্র প্রতিদ্বন্দিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ডজনদুয়েক প্রার্থীর মধ্যে থেকে অনেক যাচাই-বাচাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলাম। গ্রামে দুটি
দাখিল
মাদ্রাসাও
ছিল।
নতুন জয়েন করে স্কুলের শিক্ষকগণকে একটু হিংসুটে ও পরশ্রীকাতর মনোভাবের মনে হয়েছিল আমার বিশেষ করে তারা এলাকার মাদ্রাসাগুলোকে তাদের অসম প্রতিদ্বন্দী মনে করতেন। তারা প্রতিনিয়ত মাদ্রাসা, মাদ্রাসার শিক্ষক ও মাদ্রাসার ছাত্রদের প্রতি সহজাত পুঞ্জীভূত হিংসার অনলে দাহ্য হতেন আর মাদ্রাসাগুলোর বিরেুদ্ধে আজেবাজে ভিত্তিহীন বিশোধগার করে চলতেন। প্রতিবছর এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল বেরুলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পর ফলাফলের তূলনামূলক হিসেব-নিকেশ করতো। আমি একটা বিষয় লক্ষ করেছিলাম যে, মাদ্রাসাগুলো যে বছর ফলাফল খারাপ করতো সে বছর স্কুলের শিক্ষকগণ অত্যন্ত বড় গলায় বলতেন যে, মাদ্রাসায় কী আর কোন পড়ালেখা হয়? হুজুরেরা কি কিছু পড়াতে জানে? দেখছেনতো মাত্র কয়জন পাশ! লোকেরা মাদ্রাসায় ছেলেমেয়েদের শুধু শুধু পাঠায়। আবার যে বছর স্কুলের চেয়ে মাদ্রাসার রেজাল্ট ভালো হতো সে বছর তাদের একই কন্ঠে শুনতাম সুরের ভিন্ন মুর্ছনা। তারা বলতেন যে মাদ্রাসার হুজুররা পরীক্ষার খাতা দেখে না; তারা আল্লাহর ওয়াস্তে নম্বার বেশি দিয়ে তাদের ছাত্রছাত্রীদের পাশ করিয়ে দেয়। এজন্য মাদ্রাসায় বন্যার পানির মতো পাশ। কিন্তু এ জ্ঞানপাপী
স্কুল
শিক্ষকগণ
কখনো নিজেদের বগলের নীচে শুঁকে দেখতেন না। বিচারটা এমন যে, তুই জল ঘোলা না করলও তোর দাদা করেছিল। বিশেষ করে সেদিন আমার স্কুল শিক্ষকগণ প্রতিদ্বন্দি যে মাদ্রাসাটির প্রতি ইঙ্গিত করে এসব কথা বলতেন আমি সে মাদ্রাসারই ছাত্র ছিলাম। সঙ্গদোষে লোহা ভাসার মত ঈষৎ হিংসুটে মনোভাব আমার মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছিল। চাপা ক্ষোভ আর সংবরন করতে না পেরে একদিন আমি বলেই ফেললাম: স্যার, মাদ্রাসার ছেলেরা রেজাল্ট খারাপ করলেও দোষ, ভালো করলেও দোষ। মাদ্রাসায় কোন পড়াশুনা হয় না। মাদ্রাসার ছাত্ররা কিছুই জানে না, পড়ালেখা শুধু স্কুলেই হয়। এই যদি হয় আপনাদের বক্তব্য, তাহলে সেই কথিত অপাঙতেয় মাদ্রাসারই একজন ছাত্র আজ আপনাদেরকে ইংরেজি পড়াচ্ছেন। নিয়োগ পরীক্ষা তো অনেক কঠিনভাবে নেয়া হয়েছিল। আপনাদের পড়ানো এই স্কুলের অনেক প্রাক্তন ভালো ছাত্রও সেদিন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো। কই, আপনাদের পড়ানো সেই মেধাবী (স্কুল?) ছাত্রদের কাউকে
তো এই স্কুলের ইংরেজী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেননি। এই লজ্জা রাখবেন কোথায়?
’Silence
is Golden- যেই
শালা বলেছিল মরার আগে জীবনে যদি তাকে একবার নাগালে পাইতাম!’
