ইসলামী ব্যাংকের ডায়েরি পাওয়ার যোগ্যতা নেই আমার
-মুহাম্মদ দিদারুল আলম।
আমি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ককসাবাজার শাখায় থাকাকালীন শাখা ব্যাবস্থাপক জামাল উদ্দীন আমাকে ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ ইং সালের ব্যাংকের ডায়েরি
পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছিলেন। আমাকে ব্যাংকের ডায়েরি না দেয়ার কারন ও যুক্তি ছিল অফিসে আমি জুনিয়র (জুনিয়র অফিসার)। তাই ইসলামী ব্যাংকের ডায়েরি পাওয়ার অধিকার ও যোগ্যতা আমার ছিল না। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন জুনিয়র হিসেবে আমি ডায়েরি লিখতে জানবো না (!)। অথবা একজন জুনিয়র অফিসারকেও ব্যাংকের এই মূল্যবান (!) ডায়েরি দেয়া ব্যাংকের প্রেস্টিজের সাথে যায়
না। খুবই হীনমন্যতায় ভোগেছিলাম
সেদিন যখন অফিসে এমসিজি এসে আমার ডানেবামে সবাইকে
একটি করে নতুন বছরের ডায়েরি দিয়ে গেল আর আমি চাইলে বলেছিল যে, ম্যানেজার স্যার বলেছেন সিনিয়রিটি অনুযায়ী ডায়েরি
দিতে, আপনি জুনিয়র, তাই আপনি পাবেন না। পরে দেখেছিলাম, সবাইকে বিতরণের পরেও সেই ২০২১ইং সালের মাঝামাঝিতে অনেক ডায়েরি
ম্যানেজারের আলমারিতে পড়ে রয়েছে।
এবার একটু নিজের ঢোল নিজে পিটাই-
আমি ১৭বছর যাবত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এ চাকুরি করে আসছি। বয়স ৪৪বছর। মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ব্যাংকে এসেছিলাম। ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাশ করে পরবর্তীতে শিক্ষকতার জন্য বিএড (১ম শ্রেণি), এমএড (১ম শ্রেণি) করেছি। প্রথম শিক্ষকতা করেছিলাম পূর্ব পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর সরকারি স্কুলের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে খুরুশকুল উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপিওভূক্ত সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) হিসেবে যোগদান করেছিলাম। শিক্ষকতার পেশা ছেড়ে দিলেও নিজের উদ্যোগে সমমনা কয়েকজনকে নিয়ে ‘খুরুশকুল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে আরেকটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। তখন আমি সেই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলাম।
সে যা-ই হোক, আসল কথা হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের ডয়েরি লেখার যোগ্যতা তখনো হয়নি আমার!
কেউ আমাকে একটু বলেননি যে ইসলামী ব্যাংকের ডায়েরি পাওয়ার জন্য আর কত বছর চাকুরী করা লাগবে?
নাকি “সবার উপর ‘জ্বী হুজুর’ সত্য, তাহার উপর নাই…?”
হায়!
কবে পারবো আমরা মুখোশের আড়ালে ব্যাক্তিবিদ্বেষ আর হীনমন্যতার বেড়াজাল থেকে বের হয়ে আসতে!
