প্রমোশনে স্ত্রী বেজার (?)
-মুহাম্মদ দিদারুল আলম
গতকাল অনেকে কর্মজীবনে প্রমোশন নামক সোনার হরিণের দেখা পেয়েছে। তাই অফিসে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। চলছে মিষ্টি, সন্দেশ, রসগোল্লা ও চা-কফির ধুম। তবে প্রাণচঞ্জল হুমায়ুন সাহেব অনেকটা নির্বিকার আনমনা। প্রমোশন তিনিও পেয়েছেন। তবু তার চোখেমুখে এত বিষন্নতার চাপ কেন? জানালেন পারিবারিক সমস্যা। নোয়াখালি বাড়ি। বিয়ে করেছেন সাত বছর আগে। গতকাল প্রমোশনের রেজাল্ট বেরুনোর সাথেসাথে তিনিও অন্য সবার মতো আনন্দের সংবাদটি মুঠোফোনে সবার সাথে শেয়ার করেছিলেন। আনন্দের ছুটে তিনি বাসায় পৌঁছার আগেই তার স্ত্রীর কাছেও খুশির খবরটি জানিয়ে দেন। স্ত্রী অপেক্ষায় থাকেন কবে তার প্রতারক স্বামী বাসায় ফিরবেন। হুমায়ুন সাহেব যথারীতি অফিস শেষে বাসায় ফিরলে স্ত্রী ঝাড়ুহাতে তেড়ে আসে:
- ’’ এ্যাই প্রতারক, বাসায় ঢুকবে না। আমি তোমার সাথে সংসার করব না, বাপের বাড়ি চলে যাবো,”
- ‘’আরে থামো, কি হয়েছে? এই যে তোমার জন্য মিষ্টি নিয়ে এসেছি। আমার প্রমোশন হয়েছে, তোমাকে না ফোনে বলেছি আর তুমি কিন্তু একটা থ্যাংসও না দিয়ে ফোনটা কেটে দিয়েছো।’’
- ‘’রাখো তোমার প্রমোশন। আগে বলো, তুমি এখন কি হয়েছো?’’
- ‘’কি হয়েছি মানে? আমি এখন অফিসার হয়েছি, কি তুমি খুশি হওনি?’’
- ‘’এ্যাই ভন্ড কোথাকার, তুমি না আজ থেকে সাতবছর আগে আমার মা-বাবাকে ব্যাংকের অফিসার পরিচয় দিয়ে আমাকে বিয়ে করেছিলে। তাহলে এতদিন তুমি কোন পদে ছিলে? কেরানি? সুইপার? ঝাড়ুদার? বলো বলো বলো... (এ্যা-এ্যা—এ্যা এ্যা--- অ মাগো আব্বাগো তোমরা আমাকে কার সাথে বিয়া দিলারে এ্যা-এ্যা—এ্যা--- হায়রে আমার কপালরে…)
এতক্ষণ একটি বেসরকারি ইসলামি ব্যাংকের টেকনাফ শাখার কথা বলছিলাম। এই ব্যাংকে যারা ’সহকারি অফিসার’ পদে যোগদান করেন তাদের ’অফিসার’ হতে লাগে সাত/আট বছর। তাও আবার প্রমোশন পরিক্ষায় পাশ করতে পারলে। এই জুলুমের শেষ কোথায়?
নাহ, উনারাতো অর্থনীতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জিহাদ নিয়ে ব্যস্ত (!)
