ব্যাংকারদের লেইট আওয়ার

 

ব্যাংকারদের লেইট আওয়ার

-মুহাম্মদ দিদারুল আলম
Late Banking



জীবনের সকল ক্ষেত্রে শৃংখলা ও নিয়মাচার (Discipline) মেনটেইন করে চলা জরুরী।বিশেষত কর্মক্ষেত্রে প্রশাসন বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের আইন ও প্রবিধি পরিপালন করে কাজ করা সকলের জন্য একান্ত আবশ্যক।বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকিং কাযক্রম সমাপ্ত করে সময়মত অফিস ত্যাগ করার জন্য বারবার লিখিত নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও কিছুকিছু ব্যাংক বিশেষ করে বেসরকারী ব্যাংকগুলো তাদের সেই চিরাচরিত নিয়মে কাজ বাকী (Pending work) থাকার অজুহাতে নির্ধারিত সময়সূচী (Office Hour) শেষেও কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিসে আটকে রেখে অতিরিক্ত কাজ আদায় করে নেয়।

দেখা যায়, প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগসহ অনেক শাখাউপশাখা এমনটি এজেন্ট আউটলেটগুলোতে দিনের কাজ শেষ হওয়ার পরও সময়মত অফিসারদের বের হতে না দিয়ে নানান বাহানা বা জরুরী কাজের কথা বলে অযথা ব্যস্ত রাখা হয়, যা দুর্বলের প্রতি সবলের জুলুমের মত এক ধরণের অত্যাচারও বটে বেকারত্বের এই নাকাল সময়ে বেতনভোগী অসহায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেউ চাকুরীজীবনে (Carear) কালিমা পড়ে যাবার ভয়ে এব্যাপারে মুখ খোলে না। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য টু শব্দটি করে এসিআর (ACR) খারাপ, পদোন্নতি Promotion) ও ইনক্রিমেন্ট বন্ধসহ খোদ চাকরী খোয়াবার ঝুঁকি কেউ নিতে চায় না।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একজন প্রবীণ ব্যাংকার বলেন, “আমার দীর্ঘ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতায় এরকম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত বহু দেখেছি যা মোটেই ন্যায়-পরায়নতা নয়। এতে বিভাগীয় প্রধান বা শাখা ব্যাবস্থাপকের ব্যর্থতা বা অপরিপক্ষ কর্মকৌশলের ইংগিতই বহন করে। দেখা যায়, এসব প্রধানগণ সারাদিন ব্যক্তিগত কাজকর্ম সেরে বা আড্ডা দিয়ে দিনের শেষে কাজ নিয়ে বসেন শুধু তাই নয়, অপরিকল্পিতভাবে এরা অফিসের পিক আওয়ারে (Pick Hour) অফিসে উপস্থিত না থেকে মার্কেটিংয়ের (Hunting) কাজে বের হন, যা আরেকটি নির্বুদ্ধিতা ও অনবিজ্ঞ ব্যাংকারের পরিচায়ক আর এসবের ফলশ্রুতিই সকলকে লেট আওয়ারেও কাজ করাতে বাধ্য করে

তিনি আরো বলেন, অফিস শেষে প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারীর বেশকিছু পারিবারিক কাজ বা সামাজিক দায়-দায়িত্ব পালণ করতে হয়। তাছাড়া পরের দিন আবার চাঙ্গা হয়ে উজ্জ্বীবিত দেহমন নিয়ে অফিসে আসার জন্যও সময়মত অফিস ত্যাগ প্রয়োজন।

তাই সকলকে নির্দিষ্ট নিয়মাচারের ভেতর থেকেই উত্তম ব্যাংকারের গুণাবলী অর্জন করা উচিৎ। আদর্শ  ব্যাংকারগণ সর্বদা যথার্থভাবে নিয়ম-কানুন মেনেই তাদের প্রতিটি কর্মপর্ব সম্পন্ন করে থাকেন, যা সবার জন্য অনুসরণীয়। সর্বোপরি, ডিসিপ্লিন বা শৃংখলাবিধি মেনে চলাতেই সকলের কল্যাণ সকলের সন্তুষ্ঠি

 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post