হিন্দু ধর্মের সারাংশ
-মুহাম্মদ দিদারুল আলম
হিন্দু ধর্ম (Hinduism) বর্তমান পৃথিবীর প্রায়
দেড়শো কোটি মানুষের
আচরিত একটি শক্তিশালী প্রাচীন ধর্ম যা
ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে প্রচলিত রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ হিন্দু
ধর্মাবলম্বী ভারত ও নেপালেই রয়েছেন
তবে মরিশাস, গায়ানা, ট্রিনিদাদ, টোব্যাগো, সুরিনাম, জাপান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশেও বিপুল সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বসবাস লক্ষণীয়।
হিন্দু ধর্ম একটি বিস্তৃত ধর্ম যা বিভিন্ন শ্রদ্ধার্থীদের বিভিন্ন
উপদেশ এবং আদর্শ উপস্থাপন করে। হিন্দু ধর্মের সারকথা হল আধ্যাত্মিক উন্নয়ন এবং সমস্ত জীবনের উন্নয়নসহ আত্মস্ফুরণ এবং অবধারণা। হিন্দু ধর্মের মূল বিশ্বাস
হল ব্রহ্ম এক এবং সকল জীবন (Individual) তাঁর অংশ। হিন্দু ধর্মের মূল উপদেশ হল সত্য জ্ঞান
এবং সত্যকে জানতে হলে আত্মস্ফুরণে যেতে হবে। এছাড়াও হিন্দু ধর্ম প্রাণীজাতি
এবং প্রকৃতির সম্পর্কে সত্যকে জানার উপদেশ দেয়।
সনাতন ধর্ম এবং হিন্দু ধর্ম দুটি পার্থক্যপূর্ণ ভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়। সনাতন ধর্ম হল একটি বিশাল ধর্মীয় সম্প্রদায় যা ভারতীয় উপমহাদেশ
এবং অন্যান্য দেশগুলোতে প্রচলিত। হিন্দু ধর্ম ও সনাতন ধর্মের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। হিন্দু ধর্মে দেবতাগণ, পূজার পদ্ধতি, ধর্মীয় উৎসব এবং প্রতিবন্ধী কার্যক্রম রয়েছে যা
সনাতন ধর্মের মধ্যে নেই। এছাড়াও হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন শাখার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন
উপাদান যুক্ত থাকে যেমন বিষ্ণুধর্ম, শিবধর্ম, শাক্তধর্ম এবং তাঁত্রিক ধর্ম যা সনাতন ধর্মে পাওয়া
যায় না। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন
শাখার উপর ভিত্তি করে অনেক ধর্মীয় গ্রন্থ রয়েছে এবং সেই সাথে সনাতন ধর্মের গ্রন্থপাঠ্যকে হিন্দু ধর্ম
এর স্ক্রিপ্টার গ্রন্থ আরো বিস্তৃত করেছে।
তবে সনাতন ধর্ম এবং হিন্দু ধর্ম দুটি ধর্ম পরস্পরই একই
মূলতত্ত্ব ও উদ্দেশ্যে ভিত্তি করে এবং একই মূলকে একই নামে উপস্থাপন করে। সনাতন ধর্মে
জীবনের মূল্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং এদের মধ্যে জীবনের
উদ্দেশ্য হল ধর্মীয় বৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক পরিবর্তন। এছাড়াও উপাসনার পদ্ধতি এবং পরিচর্যার
পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল পূণর্জন্ম (Reincurnation) বা সংসার চক্রের ধারণা যা সনাতন ধর্মে পাওয়া
যায় না।
হিন্দু ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হিংদুর্বেদ। হিংদুর্বেদ-এর উপগ্রন্থগুলো- মহাভারত, রামায়ণ, পুরাণ, উপনিষদ, তন্ত্র এবং গীতাসহ আরো অনেক ধর্মীয় গ্রন্থ।
এছাড়াও হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাখার উপর ভিত্তি করে অনেক গ্রন্থ রয়েছে যেমন শিবপুরাণ,
বিষ্ণুপুরাণ, গায়ত্রী উপনিষদ, যোগবাসিষ্ঠ ইত্যাদি।
হিন্দু ধর্মের মূল তত্ত্বগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
- ব্রহ্মাণ্ড একটি অবিচ্ছিন্ন এবং অমর অসীম সমষ্টি।
- দৈব শক্তিগুলি সমস্ত প্রাণীদের উপর বিভিন্ন প্রভাব ফেলে থাকে।
- মোক্ষ বা আত্মনির্বাণ হিন্দু ধর্মের একটি মূল লক্ষ্য।
- হিন্দু ধর্মে পূজার জন্য একটি বিশাল পন্থা রয়েছে, যাতে দেবতা এবং দেবীদের পূজা করা হয়।
- কর্ম ও ধর্ম হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মানব জীবনে ন্যায্যতা এবং
সমতা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করে।
হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম এবং প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ হল বেদ। বেদগুলো চতুর্বেদ,
যজুর্বেদ, সামবেদ এবং অথর্ববেদ নামে পরিচিত। বেদগুলো সংস্কৃত
ভাষায় লেখিত এবং অদ্ভুত ধারাবাহিকতা, তত্ত্ব এবং দর্শনীয় বিষয়ে আলোকপাত করে। বেদগুলোর উপর ভিত্তি করে হিন্দু ধর্মের
বহুল অংশ গঠিত হয়েছে।
হিন্দু ধর্মের অন্যান্য প্রধান গ্রন্থসমূহ হল রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবতগীতা, পুরাণ, উপনিষদ এবং তন্ত্রসমূহ। রামায়ণ ও মহাভারত দুটি প্রসিদ্ধ কাব্য যা ভারতীয় সংস্কৃতির
একটি অসীম অংশ এবং হিন্দু ধর্মের প্রধান কাহিনী গ্রন্থ হিসাবে পরিচিত। ভাগবতগীতা হিন্দু ধর্মের প্রধান
দর্শনীয় গ্রন্থ হিসাবে পরিচিত এবং উপনিষদগুলো হিন্দু ধর্মের তত্ত্ব এবং দর্শন সম্পর্কে
জানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুরাণ হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন কাহিনী ও উপকথার সংগ্রহ। তন্ত্র
হিন্দু ধর্মের একটি বিশেষ শাখা যা উচ্চারণ, পূজা এবং মন্ত্রজাপের মাধ্যমে দেবী-দেবতার পূজা
ও আরাধনার উপায় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এদের পাশাপাশি হিন্দুধর্মের অন্যান্য গ্রন্থসমূহ হল মনুসংহিতা, যোগসূত্র, ভাগবত পুরাণ, স্কন্দ পুরাণ, গরুড় পুরাণ, মত্স্য পুরাণ, ব্রহ্মসূত্র, ছন্দোগ্য উপনিষদ ইত্যাদি।
হিন্দু ধর্ম একটি সনাতন ও বিস্তৃত ধর্ম। এটি প্রাচীন সংস্কৃতি, বিচিত্র ধর্মীয় ও দার্শনিক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেছে।
