সহিহ হাদিসে অ্যালার্জি কেন?
--মুহাম্মদ দিদারুল আলম
হাদিস না সহিহ হাদিস? সহিহ হাদিস কি শুধু আহলে হাদিসদের একার সম্পদ? নাকি সহিহ হাদিস অনুসরণকারীরা ইক্বামতে দ্বীন বিরোধী? হাদিসতো হাদিসই, সহিহ হাদিস আবার কী? এটা আসলে হাদিসশাস্ত্রে নিরেট অজ্ঞতার ফসল।
হাদিস আর সহিহ হাদিস কখনো এক জিনিস নয়। অবশ্য হাদিস অস্বীকারকারীদের প্রসঙ্গ ভিন্ন। ইসলামি পরিভাষা হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা) এর সকল কথা কাজ ও সমর্থনই হাদিস। অনেকে আছেন হাদিস মানেন কিন্তু সহিহ হাদিস পরিভাষা ব্যবহারে বেশ বেজার। তারা হাদিসের ক্ষেত্রে ‘সহিহ’ কথাটিকে এক ধরনের বাড়াবাড়ি মনে করেন। তারা হাদিস সংকলনের সুবিশাল ইতিহাস ও ‘আসমাউল রিজাল’ বিষয়ে গভীর পড়ালেখা করেন না। অথবা তারা আল্লাহর রাসুল (সা)এর সুন্নাহর মর্যাদার ব্যাপারে আপোষহীন হতে চান না। হাদিসের ক্ষেত্রে ‘সহিহ’ কথাটি বাদ দিলে আর যা বাকি থাকে তা প্রকৃতপক্ষে রাসুলুল্লাহর (সা) এর হাদিস নয়, তখন দুনিয়ার সবকিছুই হাদিস হয়ে যায়। সমাজে প্রচলিত ইসলামের নামে সকল বিকৃতি ও কুসংস্কার আইনগত ভিত্তি পেয়ে যায়। ইসলামের বাসস্থানে ঢুকে পড়ে ধর্মের নামে যতসব অধর্ম। হাজারো শিরক, বিদআত ও শরীয়াহবিরোধী অসংখ্য কুপ্রথা সহজে অনুপ্রবেশ করে যায় ইসলামের চৌহদ্দির ভেতরে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় হাদিস সংকলনের যুগে ইসলামের শত্রুরা বিশেষ করে ছদ্মবেশী মুসলমানগণ (ইহুদি-খ্রিষ্ঠান), মুশরিক, বিদআতী ও কপট মুসলমানগণ হাজার হাজার কথা রাসুলুল্লাহ (সা)এর নামে তৈরি করে হাদিস হিসেবে চালিয়ে দিয়েছিল যেগুলো হাদিসের গ্রন্থগুলোতে এখনো লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। অবশ্য তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস/রিজালবিদগণ অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম করে জাল হাদিস ও প্রকৃত হাদিস পৃথক করে আলাদা আলাদা গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন। এ রকম ‘মওজুআত’ বা জাল হাদিসের গ্রন্থ শতশত লেখা হয়েছে। এ জন্য হাদিস অনুসরণের ক্ষেত্রে যাচাইবাছাই তথা ‘তাহক্বিক’ অনুসন্ধান জরুরি।
তাই ঢালাওভাবে পুরো হাদিসশাস্ত্রকে অস্বীকার করা কিংবা কোনরূপ বাছবিচার না করে অন্ধভাবে হাদিস নামে প্রচলিত সকল কথা রাসুল (সা)এর হাদিস মনে করা কোনোটাই সঠিক নয়।
